
আশরাফুল ইসলাম, সদর থানা প্রতিনিধি, খুলনা: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখতে চায় এবং তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। সম্প্রতি ওই দলের এক শীর্ষ নেতার নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য দেশের মা–বোনদের জন্য কলংকিত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ সোমবার খুলনা মহানগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ নারী সংসারের অর্থনৈতিক চাপে কাজ করছেন। গার্মেন্টস শিল্পে যুক্ত ৫০ লাখের বেশি নারীসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা শ্রম দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ এই কর্মজীবী নারীদের নিয়েই একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তারেক রহমান বলেন, শুধু কথায় নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব হ্রাসের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পথে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হলেও দলটি কখনো হাল ছাড়েনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পায়নি। জাতীয় ও স্থানীয়—সব ধরনের নির্বাচনেই একই চিত্র দেখা গেছে। যারা অধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, তাদের অনেককেই গুম ও হত্যার মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ১২ তারিখে বঞ্চিত জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। এ জন্য দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী—এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ কারণেই অতীতে বিএনপি বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, তিনিও একজন সফল নারী উদ্যোক্তা ছিলেন। যারা ধর্মের কথা বলে নারী সমাজকে অপমান করে, তারা আসলে ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই যারা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের সঙ্গে কী করবে—সে প্রশ্ন দেশবাসীর সামনে উঠে আসে।
১৯৭১ সালেও তারা নারীদের সঙ্গে কী করেছে, তা জাতি দেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন জবাব দেওয়ার সময় এসেছে দেশের নারীদেরই। বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে পরিবার ও দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে। খুলনাকে একসময়কার শিল্পনগরী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্যাসসহ নানা সমস্যার কারণে অঞ্চলটি আজ মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে খুলনাকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং নারীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য আইটি পার্ক এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দেন তিনি। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ ও সার সুবিধার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ব্যবস্থার কথাও জানান।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে দেশের ছাত্র-জনতা। তখন কেউ ধর্ম-বর্ণ দেখেনি, সবাই একত্রিত হয়ে লড়াই করেছে। বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে সব ধর্মের মানুষ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হবে। ভোট গণনা নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগে বঞ্চিত যে অধিকার মানুষ পায়নি, তা যেন আর কেউ কেড়ে নিতে না পারে। শেষে ভোট প্রার্থনা করে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের জন্য ও দেশের জন্য রাজনীতি করে। তাই আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় খুলনা বিভাগের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তাদের বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে তারা জনগণের পাশে থাকবে।#