
মোহাঃ তসলিম উদ্দিন ও মোহাঃ সফিকুল ইসলাম ইসলাম শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে ঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজার হাজার আম গাছগুলোতে মুকুলে ভরে উঠেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ-মৌ গন্ধ, যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে।
জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছ ভরে উঠতে শুরু করেছে মুকুল। আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। দেশব্যাপী সুস্বাদু আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের বাগানগুলোতে এবার ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। মুকুল আসার আগে থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যার কাজ শেষ করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ারী চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি। এবছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় বিভিন্ন আম বাগানে মুকুলের আধিক্য চোখে পড়ার মত। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকরা মুকুলকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন।
সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবার বাগানে আগেভাগেই মুকুল এসেছে। যদি কুয়াশায় নষ্ট না হয়, তাহলে বিপুল আম উৎপাদন হবে।
শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকার আমচাষি মনিরুল ইসলাম মানিক জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে মুকুল বের হচ্ছে। মুকুল রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করছি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা করছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী জানান, জেলার প্রায় সবগুলো বাগানে মুকুল আসা শুরু করেছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় প্রায় ৭০% গাছে মুকুল এসেছে। সামনে আরো কিছুদিন মুকুল আসবে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের বাগান পরিচর্যায় কিটনাশক ও ছত্রাকনাশক ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকরাও বেশি ফলনের আশায় সে অনুযায়ী কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বাগানগুলোতে গুটি, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাত, আশ্বিনা, ফজলি গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।#