
নাহিদ জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা: সুন্দরবনে প্রবেশের দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রথম দিনেই ৩১ আগস্ট (সোমবার) চার বনদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ জন সদস্য র্যাবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। নতুন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা দস্যু সদস্যদের খুলনায় অবস্থিত র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আত্মসমর্পণকারী বনদস্যু বাহিনী ও সদস্যসংখ্যা
বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী: ১৬ জন
আনারুল বাহিনী: ১৩ জন
আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনী: ১৫ জন
আফতাব বাহিনী: ৮ জন
কেন এই আত্মসমর্পণ? এ ব্যাপারে র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে নতুন কয়েকটি দস্যুচক্রের অপতৎপরতা, স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির মতো অপরাধের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। সুন্দরবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে র্যাব তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করে।
র্যাবের কঠোর তৎপরতা, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং দস্যু জীবনের চরম অনিশ্চয়তার মুখে অবশেষে এই চার বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করে।
বনজীবী ও জেলেদের স্বস্তি র্যাবের এই ধারাবাহিক সফলতার ফলে সুন্দরবনে বনদস্যুদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ সাধারণ বনজীবীরা নিরাপদে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।#