
বিশেষ প্রতিনিধি: বিচিত্র মানুষের বিচিত্র তাদের শখ-আহ্লাদ। এই বিচিত্র শখেরই যেন প্রতিনিধিত্ব করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার (বিএসসি রানিং)। সাধারণত ভালোবাসার তাগিদে এবং আনন্দের জন্য তার বিড়াল পোষা । পরিবারের সদস্য হিসেবে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন নেওয়া হয় । প্রতিবেলায় তাদের সামনে হাজির করা হয় রুচি অনুযায়ী স্বাস্থসম্মত সব খাবার। গোসল করানো হয় শ্যাম্পু দিয়ে। শখ থেকে মিলছে আনন্দ, সঙ্গ এবং মানসিক প্রশান্তি । বিড়ালকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখা হচ্ছে ।
‘পার্সিয়ান’ জাতের শখের সেই বিড়ালের দেখা মেলে জাতীয় প্রাণী সম্পদ সপ্তাহ’২০২৫ এর উদ্বোধনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে। সেখানে‘পার্সিয়ান’ জাতের শখের পোষা দুটি বিড়াল নিয়ে এসেছিলেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। সেখানে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, শখের বসে ২০২২সালে ২২হাজার টাকা দিয়ে এসকালারের ১টা মেয়ে বিড়াল কেনেন। মেয়ে বিড়াল থেকে ১টা ছেলে ও ২টা মেয়ে বাচ্চা হয়েছে।
তিনি জানান, রাজশাহীর নয়ন বার্ড এর দোকান থেকে প্রথম মেয়ে বিড়ালটি কেনার ১১ মাসের মাথায় যখন হিট আসে তখন কনসেভ করানোর জন্য ছেলে বিড়ালের কাছে নেওয়া হয়েছিল। ২১ দিন পরে রাজশাহীর ভদ্রায় সাজিদ পেটস ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা করায়ে কনসেভ নিশ্চিত হয়। পরে ১টা ছেলে ও ২টা মেয়ে বাচ্চা হয়। তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে সামদ্রিক মাছসহ বয়লার মুরগি,কেট ফুড, পাউজ ফিড। প্রতিদিন খাবারে ব্যয় হয় ৩০০-৪০০শ’ টাকা। মাসে ২বার হিমালয় পেটস শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। পোষা প্রাণীর আরামের জন্য এসি আর হিটারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পোষা বিড়ালে একটি গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে। যেটা সঙ্গ এবং সাহচর্য প্রদান করেছে। এছাড়াও বিড়ালদের সাথে সময় কাটানোর কারণে মানসিক চাপ কমাতে এবং আনন্দ পেতে সাহায্য করেছে। ধৈর্য ও ভালোবাসা দিয়ে তাদের প্রতি দায়িত্বশীলতা হতে শিখিয়েছে। যত্ন ও নিয়মিত খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসেবা দিতে হয়। বিড়ালকে নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত হতে সময় লেগেছে। বিড়ালদের সাথে খেলাধুলা বা অন্যান্য কার্যকলাপের মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়াম, সক্রিয়ভাবে ঘুমানো বা আলিঙ্গন করাও বৈধ কার্যকলাপে পরিনত হয়েছে।
সম্প্রতি বিয়ের পর স্বামীর পরিবারের লোকজনও বিড়ালকে তার মতো করে ভালোবাসায় আগলে রেখেছেন বলে জানান। সুমাইয়া আক্তারের বাড়ি বাঘা উপজেলার চক নারায়নপুর গ্রামে।
জাতীয় প্রাণী সম্পদ সপ্তাহ’২০২৫ এ অনুষ্ঠানে সাথে এসেছিলেন তার মা রিনা আক্তার। বুধবার (২৬-১১-২০২৫) উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় এর আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন,প্রাণিসম্পদ খাতকে টেকসই ও আধুনিক করার লক্ষ্যে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘নীরোগ জাত, আধুনিক প্রযুক্তি—প্রাণিসম্পদ হবে শক্তিশালী’ প্রতিপাদ্য তুলে ধরে দুধ, ডিম, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, খামারির দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি-নির্ভর খামার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন-কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান, অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান,মৎস্য অফিসার তহুরা হক, সমাজ সেবা অফিসার মাসুদ রানা,প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের অফিসার মনসুর আলী, প্রকল্প অফিসার মাহমুদুল হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ ও পশু পালনকারি খামারি মালিকরা।
স্টল পরিদর্শনে ‘পার্সিয়ান’ জাতের বিড়ালসহ ছাগল,ভেড়া,পাঠা, পাখী ও দেশী বিদেশী জাতের প্রাণী দেখা গেছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাঃ আমিনুল ইসলাম জানান,ইচ্ছা শক্তি থেকে শখের বিড়াল পুষে অন্য প্রাণীদের মতো খামারও গড়তে পারেন। তিনি জানান, জাতীয় প্রাণী সম্পদ সপ্তাহ’২০২৫ এর মাধ্যমে খামারিদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ সেবা, রোগ নির্ণয় ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক প্রচার পরিচালনা করা হবে ।#