মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মালশিরা বাগমারা সম্পত্তির দখল নিয়ে বিবাদমান দু’পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শরিফ উদ্দিনের দাবি তার দখলীয় জায়গা ভাঙচুর ও কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করেছেন রেজাউল ইসলাম।
জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) জেল নম্বর-১৮৪, মালশিরা মৌজার, খতিয়ান নম্বর ৩১৬, দাগ নম্বর ৬৬৩ ও ৬৬৪,শ্রেণী চাতাল, পরিমাণ ২০ দশমিক ৩৩ শতক। পৈতৃক সুত্রে এই সম্পত্তির মালিক দিলিপ কুমার। কিন্ত্ত গত ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিক্রয়-কবলা রেজিষ্ট্রি দলিলের মাধ্যমে দিলিপ কুমার তার স্ত্রী লিপি রানী ও পুত্র সেতু কুমার মন্ডল দিয়েছেন।
এদিকে দিলিপ কুমার ওই সম্পত্তি বিক্রি করার কথা বলে (তিনশ’ টাকার নন- জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নামা করে) শরিফ উদ্দিন মুন্সীর কাছে থেকে ২২ লাখ টাকা নিয়েছেন। শরিফ উদ্দিন মুন্সী ওই সম্পত্তি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে হার্ডওয়ার ব্যবসার মালামাল রাখার গুদাম করে ভোগদখল করে আসছেন।
বায়নামায় বলা হয়েছে, চাতালের দক্ষিন পার্শ্বের মেইন সড়ক সংলগ্ন ফাঁকা ০.২০৩৩ একর জমির দাম তৎকালীন সময়ে শতক প্রতি দেড় লাখ টাকা হিসেবে সর্বমোট ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে গত ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে উক্ত জমির বায়না বাবদ নগদ ২২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এবং বাঁকি টাকা রেজিষ্ট্রির পরে নেয়ার কথা। সম্পত্তি বিক্রির জন্য দিলিপ দু’দিন শরিফ মুন্সীকে রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে দলিল লেখার পর রেজিষ্ট্রি না দিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে। অথচ গত ১৮ আগস্ট গোপণে মির্জাপুর গ্রামের আলাউদ্দিন আলীর পুত্র রেজাউল ইসলাম রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে দিলিপের স্ত্রী ও পুত্রের কাছে থেকে ওই সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে গত ৩০ আগষ্ট শনিবার রেজাউল ইসলাম বহিরাগত লোকজন নিয়ে জোরপুর্বক শরিফ উদ্দিন মুন্সীর দেয়া বেড়া ভেঙে মালামাল লুট করে সে বাঁশের খুটি দিয়ে সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ করেছেন।
গ্রামবাসি বলছে, বিবাদমান বা কারো দখলীয় সম্পত্তি ক্রয় করতে হলে গ্রহীতাকে অবশ্যই পত্রিকায় লিগ্যাল নোটিশ এবং দখলদারকে অবগত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্ত্ত রেজাউল ইসলাম এসব না করেই গোপণে কম দামে এই সম্পত্তি ক্রয় করেছেন যা আইনের চোখে অনৈতিক বা অবৈধ। শরিফ উদ্দিন মুন্সীর দাবি তিনি জায়গা বায়নামা করার পর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ দিলিপের স্ত্রী-পুত্রের উপস্থিতিতে জায়গা বুঝে নিয়ে,সেখানে বেড়া দিয়ে ঘিরে হার্ডওয়্যার সামগ্রীর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন,এলাকার সবাই জানেন ওই জায়গা শরিফ উদ্দিন মুন্সীর। তাই জায়গা কেনার আগে লিগ্যাল নোটিশ বা তাকে অবগত করা উচিৎ ছিল। এছাড়াও তার দখল যদি অবৈধ হয় তাহলে রেজাউল আদালত বা আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন, তা না করে গত ৩০ আগস্ট শনিবার তারা বহিরাগত লোকজন নিয়ে ভাঙচুর ও রাতের আঁধারে তার মালামাল লুট করেছে এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ৩১ আগস্ট রোববার দুপুরে তার লোকজন লুট হওয়া মালামালের অবস্থা দেখতে গেলে রেজাউল ও রফিকুল তার লোকজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল ইসলাম বলেন,তিনি বৈধভাবে জায়গা কিনেছেন, কাগজ-কলমে জায়গা না পেলে তিনি নিবেন না।তার জায়গা বুঝে নিতে তিনি বেড়া ভেঙ্গে তার সীমানা ঘিরতে গিয়েছিলেন,তবে প্রশাসন নিষেধ করায তিনি জায়গা ঘেরা থেকে বিরত রয়েছেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বসার কথা হয়েছে।এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আফজাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।#