মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে পরকীয়ার অভিযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়ার পর তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগী গৃহবধূ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কালনা আদিবাসী পাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাপড়া মিরাপাড়া গ্রামের মৃত আনসার খাঁনের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম (৩৮) দুই সন্তানের জনক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কালনা আদিবাসী পাড়ার জৈনক রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর (২৭) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন দুই সন্তানের জননী। গত শুক্রবার গভীর রাতে রেজাউল ইসলাম ওই গৃহবধূর বাড়িতে প্রবেশ করলে গ্রামবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে মধ্যরাতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে রফিকুল ইসলামের বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কালনা যুবদল নেতা আতাউর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রুস্তম আলী (তানোর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড), সাবেক ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হেনা ও কৃষি কলেজের স্টাফ বাবু। সালিশে রেজাউল ইসলামকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, আদায়কৃত জরিমানার পুরো টাকা ভুক্তভোগী নারী পাননি। সালিশে জড়িত কিছু প্রভাবশালী নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ করে নিয়েছেন।
একাধিকবার ফোন দিয়েও এ বিষয়ে সালিশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাইফুল ইসলাম মুঠো ফোনে টাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই টাকার বিষয়ে বাবু ভালো বলতে পারবে আমি অত কিছু জানিনা।কিন্তু ওই টাকা মনে হয় মেয়ে পাবে না সালিশ দাররাই ভাগ করে নিতে পারে ।
এদিকে ভুক্তভোগী ঐ নারী জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় রেজাউল ইসলামকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সালিশি রায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) আফজাল হোসেন, বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে তারা নাকি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নিয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#