
বিশেষ প্রতিনিধি:শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই একসময় ছিল ঢাকের শব্দ, ধূপের সুবাস আর দেবীর প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তি। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়া ও যুগের পরিবর্তনের সাথে মণ্ডপগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন আর প্রদর্শনীই যেন এখন উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমার উচ্চতা নিয়ে অলিখিত প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা ও ডিজে থিম দর্শনার্থীদের বেশি নজর কাড়ছে। প্রার্থনার পাশাপাশি তরুণদের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে সেলফি জোন ও আড্ডায়।
তবে এ সবের মাঝেও সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীর বাঘায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার নারায়ণপুর (পালপাড়া) সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, আড়ানী ও বলিহার মণ্ডপসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত পুরো এলাকা।
পূজার ছুটিতে নিজ গ্রাম বাঘা পৌরসভার নারায়ণপুরে এসেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় রথীন্দ্রনাথ দত্ত বলেন, “সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। দুর্গাপূজা আমাদের সত্য প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দেয়।”
মঙ্গলবার রাতে নারায়ণপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার। তিনি বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য প্রতীক। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক (অব.) জাহাঙ্গীর হোসেন, বাঘা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ মিঞা, আর আমিন জমাদার, হিমেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি অফিসার সত্যজিৎ কুমার ও প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের অফিসার মনসুর আলী মণ্ডপসমূহ পরিদর্শন করেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের বাঘা শাখার সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে জানান, এবার উপজেলায় মোট ৪৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে।
সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, “উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।#