
বিশেষ প্রতিনিধি:রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর-গোকুলপুর পদ্মা নদীর ঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দুই ব্যক্তিকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে বাঘা থানা পুলিশের সহায়তায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের গৌরাঙ্গপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মিন্টু রহমান এবং গোকুলপুর গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে আবু হুরায়রা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তাঁদের দুজনকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জানান, “নদীর বাঁধ রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের অভিযান জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বা উত্তোলনে সহায়তা করা থেকে বিরত থাকতে এবং নদীর বাঁধ রক্ষায় স্থানীয়দের সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নির্ধারিত বালু মহালের বাইরে গিয়ে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বিশেষ করে নদীভাঙন রোধে নির্মিত স্পার বাঁধ ও আই-বাঁধের পাশ থেকে ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলায় বাঁধটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। এতে আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।#