
বিডিইআরএম-কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস এর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-রাজশাহী এর উপপরিচালক শবনম শিরিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম (কনক), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর-রাজশাহী এর সহকারী পরিচালক মোঃ আশিকুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী’র পরিচালক হরেন্দ্রনাথ সিং, সমাজসেবা অধিদপ্তর-রাজশাহীর অধীন সেইফ হোম এর ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট কাজী ফাহিমা মুন্নি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোরসার মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সমরেশ কুমার সরকার।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-নাটোর এর নির্বাহী পরিচালক নরেশ চন্দ্র উরাও, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)- রাজশাহী’র সমন্বয়কারী সামিনা বেগম, সিসিবিভিও-রাজশাহী এর কো-অর্ডিনেটর আরিফ ইথার, বারসিক-রাজশাহী’র সিনিয়র রিসার্চ এন্ড পলিসি অফিসার আমরিন বিনতে আজাদ, নাগরিক উদ্যোগ-ঢাকা এর কর্মকর্তা বকুল হোসেন।
সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিইআরএম-কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস। অস্পৃশ্যতা ও নানাবিধ বৈষম্যের শিকার দলিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিডিইআরএম-কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ অনিল রবিদাস, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ঝর্না রানী দাস, পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আনন্দ রবিদাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সহ সভাপতি দেবসাগর ঠাকুর, বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন রাজভর, নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিরেন রবিদাস, নাটোর জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক রাখী জামাদারনী, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুদিন শর্মা, জয়পুরহাট জেলা শাখার সদস্য রূপালী রানী, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ (বিডিপি)-রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি লিটন রবিদাস, হরিজননেত্রী মুক্তি রানী দাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানাপাড়ায় উচ্ছেদের শিকার ভূক্তভোগী ভূমিকা বালা।
সম্মেলনে বক্তাগণ বলেন, আজও দলিত জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সেবায় কাক্সিক্ষত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বৈষম্য নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, জাতীয় বাজেটে সংখ্যা অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা প্রণয়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, আদমশুমারিতে দলিতদের আলাদা পরিচয়ে গণনা, শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান, আবাসন প্রকল্পে দলিতদের অগ্রাধিকার এবং মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অমানবিক ও অবমাননাকর পদ্ধতির বিলুপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। সম্মেলনে দলিত প্রতিনিধিরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দলিতরা এখনো রেস্টুরেন্ট, সেলুন, স্কুল, হাসপাতাল এমনকি শ্মশানে পর্যন্ত বৈষম্যের শিকার হন। বক্তাগণ আরও বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের জন্য দলিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকার ও সুশীল সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ দলিতদের বাদ রেখে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়।”
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-রাজশাহী এর উপপরিচালক শবনম শিরিন বলেন, “দলিতদের দক্ষতা উন্নয়ন মূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যোগ্য হয়ে উঠলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈষম্য কমবে। শিক্ষিত, দক্ষ ও যোগ্য হলে বৈষম্য কমবে এবং সুযোগ তৈরি হবে।”
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর-রাজশাহী এর সহকারী পরিচালক মোঃ আশিকুর রহমান বলেন, “আগামীতে দলিত যুবরা সরকারীভাবে যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন যুগোপযোগী প্রশিক্ষন নিতে ইচ্ছুক হলে আমাদের দপ্তর থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সে সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন শুধু স্বদিচ্ছা আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম (কনক) বলেন, “এদেশের সকল ক্ষেত্রে দলিত, হরিজন এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক অবদান অনস্বীকার্য। আপনাদের ন্যয়সঙ্গত কর্মকান্ডে আমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা সর্বদাই থাকবে। আপনাদের কোনও কাজে লাগলে আমাকে বলবেন, কোনরকম সংকোচ ছাড়াই।#