1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
৮১ বছরে জাতিসংঘ: মানবতার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম? - দৈনিক সবুজ নগর
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
৮১ বছরে জাতিসংঘ: মানবতার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম? খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে উচ্ছ্বসিত বাদাম বিক্রেতা রাজু: বললেন ‘জীবন সার্থক’ রাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাল থেকে কাজে ফেরার ঘোষণা কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা: প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৩ দেবহাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাস্থ দেবহাটা সমিতির মতবিনিময় সভা ও লিফলেট বিতরণ রাজশাহীতে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসক শিবগঞ্জে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে যুবসমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক বার্তা রাজশাহীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত: র‍্যালি, আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ উন্নত চিকিৎসার জন্য ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ আটক ১: র‍্যাব-৫ এর সফল অভিযান

৮১ বছরে জাতিসংঘ: মানবতার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম?

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

– নিকোলাস বিশ্বাস

২৪ অক্টোবর “জাতিসংঘ দিবস”। ২০২৬ সালে গোটা বিশ্ব এ দিবসটি পালন করবে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধ বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত পদক্ষেপ অচল করে দিচ্ছে, মানবাধিকার সুরক্ষায় দেখা যাচ্ছে দ্বৈতনীতি এবং জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বইছে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও আর্থিক চাপও বাধাগ্রস্ত করছে টেকসই উন্নয়ন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করা এবং সংলাপে বিরোধ নিষ্পত্তি করা। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার ৮১ বছর পরও এই লক্ষ্য অপরিহার্য। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ব্যবধান প্রশ্ন তুলছে: জাতিসংঘ কি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম?

প্রতিনিধিত্ব ও কার্যকারিতার সংকট

বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র ১৯৩টি। ভ্যাটিকান ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদায় রয়েছে। ১৯৪৫ সালে ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংস্থাটিতে বাংলাদেশ যোগ দেয় ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ সদস্যরাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান, যার সদস্যপদ লাভের তারিখ ২০১১ সালের ১৪ জুলাই।

সাধারণ পরিষদে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের একটি করে ভোট থাকলেও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার প্রভাব সমান নয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় ক্ষমতার অসম বণ্টন স্পষ্ট। তাই প্রশ্নটি জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সংস্থাটি কতটা কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে পারে—সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বে যুদ্ধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে। অথচ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা প্রায়ই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। যখন সম্মিলিত দায়িত্বের চেয়ে জাতীয় কৌশলগত স্বার্থ প্রাধান্য পায়, তখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে—পরিবার হারায় ঘরবাড়ি, শিশুরা হারায় শিক্ষার সুযোগ এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

শান্তি মানে শুধু যুদ্ধ বন্ধ হওয়া নয়; এর অর্থ নিরাপদে ঘরে ফেরা, ভয়মুক্ত জীবনযাপন এবং মর্যাদার সঙ্গে নতুন করে জীবন গড়ে তোলা। সংঘাত প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে অনু-প্রতিনিধিত্বশীল অঞ্চলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যাপক নৃশংসতার ক্ষেত্রে ভেটো ব্যবহারে সংযম প্রতিষ্ঠা জরুরি। এজন্য প্রয়োজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর বহুপাক্ষিকতায় আস্থা ফেরানো।

জাতীয়তাবাদ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার অবক্ষয় বৈশ্বিক সহযোগিতাকে দুর্বল করছে। কিছু সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখে; অন্যরা মনে করে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সব ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে না। আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমান ফলাফল। অন্যদের কাছে জবাবদিহি দাবি করা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এই বিতর্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ এবং এর কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ বলে আখ্যায়িত করেন বলে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটি সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিপরীতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিরাপত্তা পরিষদে সব অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংস্কারের আহ্বান জানান এবং ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার হুমকি প্রমাণ করে, স্বার্থের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিকতা জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে না; বরং তা সুরক্ষায় সহায়তা করে। এজন্য আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিত।

মানবাধিকার হতে হবে সর্বজনীন

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো অসম। কোনো কোনো সরকার সমালোচনা এড়াতে সার্বভৌমত্বের যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে নজরদারি, অনলাইন সেন্সরশিপ ও ডিজিটাল দমন-পীড়ন ব্যক্তি-স্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী নয়, সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা করতে পারলেই জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার হাতিয়ার হতে পারে না। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক সংহতি

জাতিসংঘের ২০৩০ সালের এজেন্ডা ও ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) দারিদ্র্য, বৈষম্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অভিন্ন কাঠামো তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অভিঘাত, ঋণসংকট, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন অগ্রগতিকে মন্থর করছে। পরিবেশগত সংকটে যাদের অবদান সবচেয়ে কম, অনেক ক্ষেত্রে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, স্বল্পসুদে উন্নয়ন অর্থায়ন এবং অসহনীয় ঋণের বোঝা কমানো জরুরি। উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব আর্থিক সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

তবে শুধু বৈদেশিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। জাতীয় নেতৃত্ব, সুশাসন ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের দায়িত্ব হলো অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নয়নের সুফল যেন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা।

ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ

জাতিসংঘের সনদ ও বৈশ্বিক কাঠামোগুলো মানবজাতির সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য চমৎকার রূপরেখা প্রদান করে। কিন্তু কেবল মহৎ ঘোষণা বা বার্ষিক অধিবেশনের বক্তব্যের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না। বিশ্ববাসীকে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর বাস্তবায়ন। ৮১ বছর বয়সে এসে জাতিসংঘ মানবতার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংস্থাটিকে কতটা সংস্কার করতে এবং বহুপাক্ষিক নীতি বাস্তবায়নে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে প্রস্তুত তার ওপর।

আপনার লেখার কিছু বিশেষ প্রশংসনীয় দিক:

১. বাস্তবসম্মত প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক বিতর্ক (হাভিয়েন মাইলেই ও পেদ্রো সানচেজের বক্তব্য) যুক্ত করায় লেখাটি অত্যন্ত সাম্প্রতিক ও প্রাসঙ্গিক হয়েছে। ২. বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি: ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের যোগদান এবং জলবায়ু অর্থায়ন ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের মতো দেশের চ্যালেঞ্জগুলো নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। ৩. গঠনমূলক সমালোচনা: জাতিসংঘকে পুরোপুরি বাতিল না করে এর প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়ে কোথায় সংস্কার দরকার (ভেটো ক্ষমতা, বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থা), তা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট