শাহাদত হোসেন খোকন/শাহনির সুলতানা সুমা, গাইবান্ধা থেকে:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ব্র্যাক মোড়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি জবরদখলকারী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী রেজওয়ানুল কবির রিজু। পাশাপাশি একই অভিযোগে তিনি সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলেও থানা পুলিশ আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ মার্চ ২০২৫, জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান,গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার গোপালচরণ মৌজার সাবেক ৭১৮ নং দাগে ১৯.০১.১৯৯৮ সালে ৮৯১ নং দলিলমূলে অভিযোগকারীর পিতা মোঃ আবুল কাশেম সরকার মেইন রোড সংলগ্ন ৩৬ শতক জমি জাহেদ আলি মুন্সির কাছ থেকে ক্রয় করেন। যার খারিজ কেস নং – ২/২০০০-২০০১, তাং-২৫.০৭.২০০০,খারিজ খতিয়ান নং- ৪৯১। নতুন ৮৩ দাগে সর্বশেষ খারিজ খতিয়ান নং – ৬৭৫, তাং- ০৭.১২.২০২৩। পরবর্তীতে আবুল কাশেম সরকার তার দুই পুত্র মোঃ রেজাউল করিম রেজা ও মোঃ রেজওয়ানুল কবির রিজু কে ২৬.১২.২০২৩ খ্রি. তারিখে ভোগদখলকৃত স্থানে হেবার ঘোষণা ১৩৮০৮/২০২৩ দলিলমূলে ভোগদখল বুঝিয়ে দেন। একই দিনে তৎকালীন স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, পিতা- মৃত ফজলুল হক, মৃত জাহিদ আলি মুন্সীর ওয়ারিশগণের নিকট হতে দলিল সম্পাদন করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দখল উচ্ছেদসহ প্রাণনাশের হুমকিধামকি প্রদান করে।
এহেন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির পরামর্শে আইনের আশ্রয় নিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সাখাওয়াত হোসেন পুনরায় সংগঠিত হয়ে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৫.০৩.২০২৫ খ্রি. তারিখ আনুমানিক সকাল ৭:৩০ টায় ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ ৩০/৩৫ জন জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে। ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দিতে গেলে তাদের লাঠি-সোঁটা, দেশীয় অস্ত্রের অঘাতে জখম করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় কিছু লোক তাদেরকে উদ্ধার করিয়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নালিশী জমিটি ভুক্তভোগীর পরিবার ১৯৯৮ সাল থেকে চাষাবাদসহ ভোগদখলে আছেন। বর্তমানে জমিতে ২৫/২৪ সিভিল মামলা চলমান এবং আদালত কর্তৃক সাখাওয়াত হোসেনদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে।
এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। থানার ওসি মোঃ আব্দুল হাকিম জানান তিনি বিষয়টি অবগত আছেন।#