জি,এম,আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী ও এক কলেজছাত্রের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলাখালি গ্রামে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে আশামনি (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। সে হরিনগর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে এবং জেলাখালির মাজেদ সরদারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পর তার মা শিল্পী খাতুন তাকে বকাঝকা করেন। এর কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে আশামনিকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে। এ সময় ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর গ্রামে শনিবার (২ মে) সৈকত মুখার্জি (১৭) নামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার পিতা আদিত্য মুখার্জি, যিনি স্থানীয় আশা পেট্রোল পাম্পের তেল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৈকতের সঙ্গে একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়ের পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। এরই একপর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মেয়ের পরিবার এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সৈকতের মৃত্যু হয়েছিল এবং তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শ্যামনগর থানার ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে উভয় ঘটনাই আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
স্থানীয় সমাজকর্মীর শেখ কামরুল ইসলামের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক চাপ, পারিবারিক আচরণ ও সামাজিক পরিস্থিতির বিষয়ে আরও সচেতনতা জরুরি। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর