
শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন হাজারো বাউল ভক্ত ও অনুরাগী।
আখড়াবাড়ির আঙিনায় আসন গেড়েছেন দেশ-বিদেশের সাধু-ভক্তরা। একতারা-দোতারার সুর, গুরু-শিষ্যের ভাব বিনিময় আর দেহতত্ত্বের গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে সাঁইজির বারামখানা। মাজার প্রাঙ্গণ, মাঠ ও কালি নদীর পাড়ঘেঁষে বসেছে ভক্ত-অনুসারীদের খণ্ডখণ্ড আস্তানা। লালন মেলার আগেই পুরো এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। লালন অ্যাকাডেমি ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর ১ কার্তিক এই তিরোধান দিবস পালন করা হয়। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভক্তরা।
আগত ভক্ত-অনুসারীরা জানান, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সাঁইজির প্রেমের টানে তারা প্রতিবছর এখানে আসেন। ভাবের আদান-প্রদান এবং গুরুর স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করতেই তাদের এই উপস্থিতি। এছাড়া উৎসবকে কেন্দ্র করে কালি নদীর পাড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা ও বাহারি পণ্যের দোকান।
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌহিদ বিন হাসান জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এবারের দুর্গাপূজা ও লালন স্মরণোৎসব একই সময়ে হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। উৎসবটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।#