বিশেষ প্রতিনিধি: গত ছয় দিনে জাতীয় গ্রীড থেকে বরাদ্দ বাড়ায় বাঘা ও আড়ানীতে লোডশেডিং কমেছে। গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত দুই দিন এ অঞ্চলে কোন লোডশেডিং হয়নি। তবে বুধবার (১৯ আগষ্ট) বিকাল পৌনে ৪টা থেকে আবারো লোডশেডিং বেড়েছে।
বাঘা জোনাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) এর পর থেকে লোডশেডিং কমেছে। বুধবার (১২ আগষ্ট) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাঘা ও আড়ানী উপকেন্দ্রে চাহিদা ছিল ১৬ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬.৪ মেগাওয়াট। ফলে ৯.৫৬ মেগাওয়াট অর্থাৎ চাহিদার ৬০% লোডশেডিং করতে হয়েছিল। এরপর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট): রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল ১০.৯২ মেগাওয়াট। চাহিদা ছিল ১৭.১০ মেগাওয়াট। ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত আর লোডশেডিং হয়নি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট): রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল ১১.৬৬ মেগাওয়াট। চাহিদা ছিল ১৭ মেগাওয়াট। শনিবার( ১৫ আগস্ট) : রাত ১২টা-সকাল ৯টা: চাহিদা ১৭.০, সরবরাহ ১০.৩০ মেগাওয়াট সকাল ৯টা-দুপুর ১২টা: লোডশেডিং নেই দুপুর ১২টা-বিকাল ৩টা: চাহিদা ১৬.০০, সরবরাহ ৭.৮৭ মেগাওয়াট বিকাল ৩টা-সন্ধ্যা ৭টা: লোডশেডিং নেই । সন্ধ্যা ৭টা-রাত ৯টা: চাহিদা ২০.০, সরবরাহ ৯.৭৮ মেগাওয়াট । রাত ৯টা থেকে লোডশেডিং নেই রোববার (১৬ আগস্ট): রাত ১২টা ১০-রাত ৩টা ২০: চাহিদা ১৭.০০, সরবরাহ ৯.৯০ মেগাওয়াট । রাত ৩টা ২০-দুপুর ১১টা ৫৪: লোডশেডিং নেই । দুপুর ১১টা ৫৪-বিকাল ৪টা ২৫: চাহিদা ১৬.০০, সরবরাহ ৭.১৫ মেগাওয়াট । বিকাল ৪টা ২৪-সন্ধ্যা ৬টা ৪২: লোডশেডিং নেই । সন্ধ্যা ৬টা ৪২-রাত ৭টা ৪২: চাহিদা ১৯.০০, সরবরাহ ৯.৪৫ মেগাওয়াট । রাত ৭টা ৪২ থেকে লোডশেডিং নেই। সোমবার (১৭ আগস্ট) ঃ রাত ১২টা ২৬-রাত ২টা ১৬: চাহিদা ১৭.০০, সরবরাহ ১২.৯০ মেগাওয়াট রাত ২টা ১৬-সকাল ১টা ৪০: লোডশেডিং নেই সকাল ১১টা ৪০-দুপুর ১টা ৪০: চাহিদা ১৫.০০, সরবরাহ ৬.৬২ মেগাওয়াট দুপুর ১টা ৪০ থেকে লোডশেডিং নেই মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) : রাত ১২টা থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং নেই। তবে এদিন বুধবার বিকাল পৌনে ৪টা থেকে আবারো লোডশেডিং বেড়েছে।
বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী বিকাল পৌনে ৪টা থেকে এ অঞ্চলে চাহিদা ছিল ১৬ মেগাওয়াট প্রায়। বরাদ্দ পাওয়া যায় ৭ দশমিক ১৫ মেগাওয়াট প্রায়। লোডশেডিং ৮ দশমিক ৮৫ মেগাওয়াট। ৫৫%।
বাঘা পৌর সভার বাজু বাঘা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল হালিম বলেন,সপ্তাহ খানেক পর থেকে লোডশেডিং কমেছে। গত দুই দিন লোডশেডিং নেই। এর আগে লোডশেডিং যন্ত্রণা জনমনে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তার ভাষ্য, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসির ব্যবহার ও বিদ্যুৎ ব্যাটারি চালিত যানবাহনে বিদ্যুৎ এর ব্যবহার কন্ট্রোল করতে পারলে বিদ্যুৎ অনেকাংশে সাশ্রয় হবে ।
বাজু বাঘা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্ৰামের বাসিন্দা বাসিন্দা মিশন মিঞা জানান, বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং এর কারণে অনেকেই আইপিএস,ব্যাটারি চালিত ফ্যান কিনে বিদ্যুৎ এর চাহিদা পূরণ করেছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর বাঘা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মনিরুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রীড থেকে বরাদ্দ বাড়ায় লোডশেডিং কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে বরাদ্দ কম থাকলে এখনও কিছু সময় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বুধবার বিকাল থেকে বরাদ্দ কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তিনি জানান, লোডশেডিং না থাকলে আমরা আরামে থাকি। লোডশেডিং বাড়লে নিরাপত্তার অভাব বোধ করি।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর