নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের লালপুর উপজেলার ভেল্লাবাড়িয়া আব্দুল ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ ছাড়াই ২ শিক্ষক সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ লালপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করার পরেও উক্ত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নায়েব উদ্দিনের দাপটেই চলছে নিয়োগ ছাড়াই ওই দুই জনের শিক্ষকতা।
গত ৫ই জুলাই ১০ শ্রেণির এক ছাত্রসহ ছাত্র অভিভাবক লালপুর উপজেলার ইউএনও এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কার্যালয়ে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানা যায়।উক্ত অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নায়েব উদ্দিনের গাফিলতির কারনে একাধিক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি না আসা,স্কুলের কার্যক্রম হাট বাজারের কম্পিউটারে দোকানে সম্পন্ন করা সহ অবৈধভাবে/নিয়োগ ছাড়াই মেরিনা ও তোফায়েল নামের ২জন শিক্ষকতা করার বিষয় উল্লেখ করা হয়।এর ধারাবাহিকতায় সোমবার(১৪ই জুলাই-২০২৬)ইং তারিখে ভেল্লাবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে ও কিছু ছাত্র/ছাত্রী অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,অভিযোগ গুলো সঠিক।
এই অভিযোগ ছাড়াও তারা বলেন,অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এনামুল ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নায়েব উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব চলমান।এনামুল স্কুলে উপস্থিত হলে নায়েব উদ্দিন ছাত্র/ ছাত্রী উসকানি দিয়ে তাকে আক্রমণ করায়,অফিসে তালা দেয়।এ নিয়ে আদালতে মামলা মোকদ্দমাও চলমান আছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়,বিদ্যালয়টিতে মাত্র ৮ জন (নায়েব, কিরন, আলাউদ্দিন, আফতাব, আতাউর, তহমিনা, উজ্জ্বল ও সঞ্জয় কুমার)নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন,সাথে অভিযুক্ত নিয়োগ ছাড়াই শিক্ষক মেরিনা ও তোফায়েল উপস্থিত আছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নায়েব উদ্দিন এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কৌশলে বাহিরে চলে যায়।অন্য শিক্ষকরা সংবাদ কর্মীদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)বরকত উল্লাহ এর অফিসিয়াল মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও কল রিসিভ করে নি। একাডেমিক সুপার ভাইজার সাদ আহমেদ শিবলী সংবাদ কর্মীদের মুঠোফোনে জানায়,এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াজেদ আলী মৃধা সংবাদ কর্মীদের জানায়,অভিযোগ বিষয়ে একাডেমিক সুপার ভাইজার সাদ আহমেদ শিবলী হয়তো জানেন,আমাকে তথ্য সংরক্ষণ আইনে আবেদন না করে কখনো যোগাযোগ করবেন না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের জানায়,অভিযোগ গুলো ১০০% সত্য কিন্তু আমার কিছুই করার নেই,আমি স্কুলে উপস্থিত হলেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নায়েব উদ্দিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে হেস্তনেস্ত করার চেষ্টা চালাই। অবশেষে আমি নিরুপায় হয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছি।মেরিনা ও তোফায়েল এর কোন নিয়োগ হয়নি তারা অবৈধভাবে শিক্ষকতা করছেন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণে শিক্ষক পরিচয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারি কোষাগারের হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করছেন বলেও জানান নির্যাতিত এই প্রধান শিক্ষক এনামুল হক।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর