# মেহেরুল ইসলাম মোহন, লালপুর-নাটোর: নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থানরত মনিহারপুর-রামকৃষ্ণপুর(এম আর)উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদ(৪৫) ও সহকারী শিক্ষিকা বুলবুলি ফেরদৌস পলির মধ্যে সুদের টাকা নিয়ে দীর্ঘদীনের দ্বন্দ্বের জেরে অবশেষে ঐ শিক্ষিকার দেওয়া ফাঁকা চেকে ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করে রাজশাহীর বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/বাঘার আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন সুদে কারবারি শিক্ষক মামুন।মামলা নং- সি-২০০/২০২৬(বাঘা)।
মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়,রাজশাহীর বাঘা থানার ছাতারী এলাকার জালাল উদ্দীনের ছেলে মামুন অর রশিদ ও লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া মোল্লাপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদের মেয়ে বুলবুলি ফেরদৌস ওরফে পলি উভয়ই এম আর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।মামলার কপিতে উল্লেখিত তথ্য মতে,শিক্ষিকা বুলবুলি ফেরদৌস পলির ব্যবসার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে শিক্ষক মামুন অর রশিদ এর নিকট থেকে ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা কর্জ/ধার নেয়।কিছু দিন পর মামুন স্যার টাকা ফেরত চাইলে বুলবুলি ফেরদৌস তার নিজ নামীয় অগ্রনী ব্যাংক বাঘা শাখার একটি চেক প্রদান করেন।যাহার চলতি হিসাব নম্বর মামলায় উল্লেখ আছে।পরে মামুন উক্ত শাখায় চেকটি নিয়ে গেলে চেকটি ডিজঅনার হয়।তারপরে মামুন বাদী হয়ে রাজশাহীর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে বাঘা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারকে তদন্তের আদেশ দিয়ে আগামী ২০/০৮/২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার(৩রা আগষ্ট-২০২৬)সকালে সংবাদ কর্মীদের ঐ মামলার কপি দেখিয়ে শিক্ষিকা বুলবুলি ফেরদৌস দুঃখ ভারাক্রান্ত মন ও অশ্রুশিক্ত নয়নে কান্না জড়িত কন্ঠে জানায়, শিক্ষক মামুন স্যার আমাকে সরলতার সুযোগে বিশ্বাস ভঙ্গ করে চেকের মাধ্যমে মামলা করে আমাকে হয়রানি ও প্রতারণা করার চেষ্টা করছে।আমি আমার পারিবারিক সমস্যার কারনে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা কর্জ/ধার নিয়েছিলাম।টাকা নেওয়ার সময় উনি আমার থেকে একটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক চেয়েছিল।এমন চেক না দিলে আমাকে টাকা দিবেনা বললে আমি ও আমার স্বামীর উপস্থিততেই নিরুপায় হয়ে চেকটি দিয়েছিলাম এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতে নিয়েছিলাম।পরে আমি তার টাকা দিতে বিলম্ব হলে উনি বলে যতদিন যাবে ততদিন সুদ দিতে হবে, সুদের কোন ছাড় হবে না।পরে আমি বাধ্য হয়ে সুদের টাকা দিতে থাকি।এভাবে সুদাসলে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার নগদ টাকা ও একটি স্বর্নের চেইন দিলেও তিনি না মেনে নেয়নি।তারপর উনি এই মামলা করেছে।আমি এ বিষয়ে হতাশ ও উদ্বিগ্ন বলে সুদের হাত থেকে ও মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে এম আর হাইস্কুলে গেলে মামুন স্যারকে পাওয়া যায়নি।মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও কল রিসিভ করেনি। হাইস্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান এর সাথে কথা বলে জানা যায়,মামুন স্যারের নিবন্ধন সার্টিফিকেট শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রাথমিকভাবে ভূয়া প্রতীয়মান হওয়ার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে সে এই স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সেই সাথে টাকা লেনদেন যেহেতু তাদের পারিবারিক বিষয় সেহেতু তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর