নাহিদ জামান, নিজেস্ব প্রতিনিধি, রূপসা: রূপসায় পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনদিন ব্যাপী রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠান ২৫ শে বৌশাখ শুক্রবার থেকে শুরু করে ২৭ বৌশাখ রবিবার বিকালে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথীর বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিস হুরে জান্নাত।
তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষিজ্ঞান ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। তিনি জমিতে কীভাবে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি প্রয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানো যায় এ বিষয়ে বাস্তবমুখী ও মানবিক চিন্তা ধারণ করতেন। তাঁর কৃষি দর্শন ছিল প্রকৃতি, মানুষ ও অর্থনীতির সমন্বিত উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি। রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্যিক নন, বরং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ভাবনারও একজন পথপ্রদর্শক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষিকে শুধু জীবিকার মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি মনে করতেন, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ এবং কৃষি শিক্ষার বিস্তারকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর চিন্তাধারা আজও আমাদের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পথনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রবীন্দ্রনাথের কৃষি দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কৃষকের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিকে কেবল উৎপাদনের খাত হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের প্রতি সম্মান, তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথের দর্শন আমাদের সেই দিকেই এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজ কানিজ ফাতেমা লিজা। স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মাধ্যমিক ও শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস আর রেজা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীম।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজজাক মীর, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬তম বংশধর মানিক লাল কুশারীর সহধর্মিণী ছায়া রানী কুশারী, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, পিঠাভোগ ডিজিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাহীন আবরার হিমেল, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মোহাম্মদ রহমত উল্যাহ, রাফসান যানি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, একাডেমিক সুপার ভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল এবং রূপসা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রকৌশলী শোভন সরকার, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ বোরহানউদ্দিন, রূপসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা লবিবুল ইসলাম, প্রকৌশলী সুখেন রায়, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, সরোজ কুমার হালদার, এ্যাডঃ সুশীল পাল, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত মহলী, খুলনা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিমুদ্দিন, রবী ঠাকুরের বংশধর গোপাল কুশারী, জামায়াতে ইসলামী নেতা হাফেজ মাওঃ জাহাঙ্গীর ফকির প্রমূখ।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর