
নাহিদ জামান, নিজস্ব প্রতিনিধি (রূপসা): সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও রূপসায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা।
দুর্গাপূজার বাকি আর মাত্র ২৫ দিন। তাই এক মুহূর্ত বসে থাকার সময় নেই কারিগরদের। কেউ প্রতিমার জন্য মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ খড়কুটো ও বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউবা সেই কাঠামোর ওপর সূক্ষ্মভাবে মাটি মেখে দিচ্ছেন। এভাবেই ধাপে ধাপে রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের হাত-পা, গায়ের গঠন এবং মুখমণ্ডল।
সাধারণত মূল কারিগরের সঙ্গে থাকেন দুই-একজন সহকারী। একেকটি মৃৎশিল্পী দল মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭টি প্রতিমা তৈরির বায়না নেয়। প্রতিমা গড়ার কাজ বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ—কাঠামো তৈরি, মাটি লাগানো, শুকাতে দেওয়া, রঙের প্রলেপ দেওয়া এবং নানা রকম সাজসজ্জায় সাজিয়ে তোলা।
প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও চলে—কার প্রতিমা কত বেশি সুন্দর ও নিখুঁত হবে। যার কাজ যত সুন্দর, বাজারে তার চাহিদাও তত বেশি। তবে মেধা ও শ্রমের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক পান না বলে জানান কারিগররা।
এক কারিগর আক্ষেপ করে বলেন, "সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে সব শ্রেণির মানুষ থাকেন। সবাই তো সমান অর্থ দিতে পারেন না, তাই আমাদের মজুরিও কম হয়। তবুও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা এই পেশা ভালোবাসা থেকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছি।"
এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন জানান, "আমাদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এ বছর রূপসা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ৭৫টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে।"
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "যেসব মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, সেখানে ইতিমধ্যেই নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত দু'বছরের মতো এবারও সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৭৫টি মণ্ডপেই পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।"#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর