1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
বাঘায় ১৪ দিনের মেলার জন্য ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ওয়াকফ্ এস্টেরর মাঠ ইজারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম বাগানের পরিচর্যা করা নিয়ে ব্যস্ত আম চাষীরা ​রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বৈত নীতি: বিসিএস কি একমাত্র মানদণ্ড? রামেবি ভিসিকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনে ৩ দিনের আল্টিমেটাম: সচেতন রাজশাহীবাসী গ্ল্যামার বনাম জীবনবোধ: আত্মহননের মিছিল রোধে ধর্মীয় ও আত্মিক চেতনার গুরুত্ব সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যাবসায়ীসহ ৫ জন গ্রেফতার ধোবাউড়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ টেন্ডারবাজি ,চাঁদাবাজি, অবৈধ পুকুর খননসহ অন্যায় কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না : এমপি চাঁদ   বিএনপি ও দেশের উন্নয়ন করবে তারেক রহমান, বললেন বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা ঈশ্বরদীতে কৃষকের ৫ লাখ টাকার গাজর লুটের মামলায় দুই যুবদল কর্মী গ্রেফতার

​রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বৈত নীতি: বিসিএস কি একমাত্র মানদণ্ড?

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

___ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম ৥

​ভূমিকা: একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ডের কারিগর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি ও বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান, তা আজ এক গভীর সংকটের রূপ নিয়েছে। বিসিএস (BCS) ক্যাডার হওয়াকে আজ শিক্ষা ও সম্মানের একমাত্র ‘প্যারামিটার’ বা মাপকাঠি হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। অথচ জ্ঞান সৃজন ও বিতরণের মূল কারিগর যারা—বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ—তাদের অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের নিচে স্থান দেওয়া হচ্ছে। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে যোগ্যতার অভিন্ন মাপকাঠি থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি তকমা লাগিয়ে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত করা হচ্ছে। বিসিএস কি মেধার একমাত্র মাপকাঠি? রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার প্রধান শর্ত হিসেবে বিসিএস-কে দেখা হয়।

কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপট ভিন্ন: ১. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বনাম বিসিএস: দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসেন। তারা কোনো বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পান না, বরং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একাডেমিক রেকর্ড এবং গবেষণা কর্মের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যদি বিসিএস-ই শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হতো, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান বিসিএস ক্যাডারদের নিচে হওয়ার কথা ছিল, যা বাস্তবসম্মত নয়।

২. যোগ্যতার অভিন্নতা: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও এনটিআরসিএ (NTRCA) নামক কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান, যার সিলেবাস এবং মান অনেক ক্ষেত্রে বিসিএস-এর সমপর্যায়ের। ​এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চনা: একটি বিশ্লেষণ সরকারের নিয়ম-কানুন মেনে চাকরিতে প্রবেশ করেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যে বৈষম্যের শিকার হন, তা নিম্নরূপ: ক্যাডার শিক্ষকরা গ্রেড-৩ বা অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতি পান, অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পর আর কোনো পদোন্নতি পান না। সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক হওয়ার পথ তাদের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও আকাশ-পাতাল পার্থক্য বজায় রাখা হয়েছে। ​

বঞ্চনার মূল বিন্দু: একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক মেধা থাকা সত্ত্বেও সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পর আর উপরের পদে উঠতে পারেন না। এটি কেবল পেশাগত বৈষম্য নয়, বরং এটি একজন শিক্ষকের সৃজনশীলতা ও উদ্যমকে চিরতরে স্তিমিত করে দেওয়ার একটি প্রশাসনিক কৌশল। ​আমলাতান্ত্রিক আধিপত্য ও চতুর্থ শ্রেণির সুবিধা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দেখা যায়, একজন বিসিএস ক্যাডার বা সরকারি দপ্তরের একজন সাধারণ কর্মচারী (চতুর্থ শ্রেণি) যে ধরনের প্রটোকল বা ‘সরকারি’ সুবিধা ভোগ করেন, একজন অভিজ্ঞ এমপিওভুক্ত শিক্ষক তার অর্ধেকও পান না। চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে আর্দালি পর্যন্ত সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে পারেন, কিন্তু মানুষ গড়ার কারিগররা সেখানে ‘বেসরকারি’ তকমার কারণে অবহেলিত থেকে যান।

​উপসংহার বিসিএস পাস করা অবশ্যই কৃতিত্বের, কিন্তু এটি কোনোভাবেই শিক্ষা বা সম্মানের একমাত্র প্যারামিটার হতে পারে না। একটি দেশে যখন পিয়নের সরকারি মর্যাদা একজন শিক্ষকের চেয়ে বেশি হয়, তখন বুঝতে হবে সেই রাষ্ট্রব্যবস্থায় নীতিগত বিচ্যুতি ঘটেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ না দেওয়া তাদের মানবাধিকার ও পেশাগত অধিকারের লঙ্ঘন। রাষ্ট্রের উচিত ‘সরকারি-বেসরকারি’ দ্বৈত নীতি পরিহার করে যোগ্যতার ভিত্তিতে অভিন্ন বেতন ও পদমর্যাদা নিশ্চিত করা। অন্যথায়, আপনার সেই ‘অচেনা আয়নার কারিগর’ কবিতার মতো, শিক্ষকরা নিজেদের চেনা আয়নায় নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে ব্যর্থ হবেন, যা জাতির জন্য এক ভয়াবহ বৌদ্ধিক বিপর্যয় ডেকে আনবে!#

…. লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট