
জুবায়ের, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে পৌঁছেই আখচাষিদের জন্য বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভার মঞ্চ থেকে ল্যাপটপের বাটন চেপে দেশের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনের পরপরই ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যায় প্রণোদনার অর্থ। টাকা জমা হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবেই মোবাইল ফোনে এসএমএস বার্তা পান নিবন্ধিত কৃষকরা।
জনসভার প্রথম পর্বে ডিজিটাল প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশের আখচাষকে ত্বরান্বিত করতে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন কৃষককে ১২ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা দেওয়া হলো।” পরে তিনি দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ১৫ জন প্রতিনিধিত্বকারী আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন।
প্রণোদনা বিতরণ পর্ব শেষে জনসভার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সফরসূচিতে পরিবর্তন ও সরাসরি জনসভায় যোগ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান।
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সফরসূচিতে জরুরি পরিবর্তন আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভাস্থলে যোগ দেন। ফলে পূর্বনির্ধারিত নগরের গণকপাড়ায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন এবং সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি দুটি বাতিল করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই পদ্মাপাড়ের ঐতিহাসিক রাজশাহী নগরে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।
রাস্তাঘাট সংস্কার: বিমানবন্দর থেকে জনসভাস্থল পর্যন্ত প্রধান প্রধান সড়ক সংস্কার, পিচ ঢালাই ও ডিভাইডারে রং করা হয়।
সৌন্দর্যবর্ধন: দেয়ালচিত্র অঙ্কন, ড্রেন মেরামত এবং ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে পুরো পথ পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়।
মাদ্রাসার মাঠ: ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিশাল মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি মাঠের উঁচু-নিচু স্থান সমান করা হয়, যা গত কয়েক দিন ধরে মনিটরিং করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। হাতে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে রাজশাহীজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শাহ মখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান:
জনপ্রতিনিধি: রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
প্রশাসন ও পুলিশ: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (RDA) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
রাজশাহীর জনসভা শেষে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে মঙ্গলবার সকালেই তিনি রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার পথসভায় বক্তব্য দেন।#