
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নয়াদিল্লি ও পটনা: নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লির যন্তরমন্তরের ভেতরে ঢুকে নাটকীয়ভাবে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি) বা ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে তালাবদ্ধ গেট ও ব্যারিকেড টপকে ভেতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর সময় সিজেপির দুই শীর্ষনেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসসহ মোট ১৪ জনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিহারের রাজধানী পটনাও, যেখানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গত ৯ অক্টোবরের নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি উচ্চপর্যায় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দিল্লির ‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল’গুলির তালিকা থেকে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে রাজধানীর বিকল্প তিনটি স্থান—মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডে প্রতিবাদ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকার পর মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের চারপাশের প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে কঠোর পাহারা বসায় দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সমস্ত নিরাপত্তাকে ফাঁকি দিয়ে ককরোচ বা সিজেপি নেতাকর্মীরা অভিনব কায়দায় ভেতরে প্রবেশ করেন। কনট প্লেসের ৭ নম্বর যন্তর মন্তর রোডে অবস্থিত নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর কার্যালয়ের পিছনের একটি সরু গলি ও তালাবদ্ধ লোহার ফটক টপকে তাঁরা ভেতরের চত্বরে পৌঁছে যান।
তদন্তে জানা গেছে, মূল প্রবেশপথগুলোতে পুলিশি পাহারা বেশি থাকায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতেই ওই সরু গলি ও আশপাশের এলাকার ‘রেইকি’ বা রুট ম্যাপ তৈরি করে রেখেছিলেন ককরোচ সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং জাতীয় পতাকা মেলে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিজেপির দুই শীর্ষনেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শিন্ডেসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই তাদের ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা প্রতিরোধমূলক আটক করেছিল পুলিশ। আদালত থেকে ১ বছর ‘শান্তি বজায় রাখার’ শর্তে জামিন পাওয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় তাঁরা আবারও এই ঝটিকা অভিযানে অংশ নেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনভঙ্গ ও অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
দিল্লি হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই যন্তর মন্তরে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে, চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভের জেরে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে মোতায়েন করা ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেয়াদ আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন জানিয়েছে দিল্লি সরকার। এমনকি রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ২৮০০ অতিরিক্ত জওয়ান ও অফিসার মোতায়েন করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর মিলেছে। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের প্ররোচনামূলক পোস্ট ও ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার প্রায় ১০০টি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিহারে। মঙ্গলবার পটনার রাজপথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে সর্বাত্মক বিক্ষোভ হয়। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) এবং রেভল্যুশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (আরওয়াইএ)-এর যৌথ ডাকে পটনার গান্ধী ময়দানে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর বিশাল জমায়েত শুরু হয়।
দুপুরের দিকে ছাত্র ও যুব সংগঠনের এই জমায়েত মিছিল করে লোকভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড টপকে বাংলো চৌরাহার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তীব্র ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চড়াও হয় এবং আন্দোলনকারীদের টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে। মহিলাসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, নির্ধারিত এলাকার বাইরে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত সপ্তাহেও পটনায় কংগ্রেসের মিছিলকে কেন্দ্র করে জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছিল, যা আজকের এই সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করল।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর