
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: েটাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের গল্লী বড়বাড়ি এলাকায় জমি ও সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সালিশ-বৈঠক, একাধিকবার জমি মাপজোক, গ্রাম আদালত এবং দেওয়ানি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও এখনো এই বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ভূক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে।
অভিযোগকারী মো. সিরাজুল ইসলাম লাবুর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানাধীন সম্পত্তি। তবে প্রতিবেশী কাইয়ুম খান খোকা ও তার স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সেই জমির একটি অংশ দখল করে রেখেছেন। জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা বললে তাকে এবং তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে সিরাজুল ইসলামের পুকুরে আবর্জনা ফেলে মাছের পোনা নিধনের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিক মূলত আদাল খান। তবে বিএনপি নেতা ইমরান খান ঈমান আলীর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কাইয়ুম খান জমিটি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। একাধিকবার সালিশে জমি বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হয়নি।
ঘটনাসূত্রে পাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে:
ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগ: বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করা হয়।
সীমানা অসঙ্গতি: পরিমাপ প্রতিবেদনে দুই পক্ষের সীমানায় ৮ ফুট ও ১২ ফুট জায়গার অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে এবং বিরোধপূর্ণ একটি স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
মালিকানার নথি: খতিয়ান নম্বর ২৬৬-এ মো. সুলতান আলী খানের নামে ১২৬ শতক জমির স্পষ্ট তথ্য রয়েছে এবং ওই নামে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রসিদ পাওয়া গেছে।
গ্রাম আদালত থেকে দেওয়ানি আদালত: ইউপির গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা নম্বর ০৫/২০২৫ সংক্রান্ত কার্যক্রম শেষে সঠিক সমাধানের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৮ মে মামলাটি মির্জাপুর সহকারী জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
আদালতের পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে সিরাজুল ইসলাম লাবু মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জমি দখল, হুমকি ও পুকুরের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত বিবাদী পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জমির সীমানা ও মালিকানার সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উল্টো ঘটনাটি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না বলে মন্তব্যটি এড়িয়ে যান।
মাপজোক ও আদালতের নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও আইনগত জটিলতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয়রা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন, থানা পুলিশ ও দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে খতিয়ান যাচাই করে সীমানা নির্ধারণ এবং জমি হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর