
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের কোনো প্রাথমিক বৈধ কাগজপত্রই নেই। এছাড়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে নবায়ন না করেই অবৈধভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চিকিৎসার নামে নামসর্বস্ব সেবা দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল চালুর জন্য ন্যূনতম ৩ জন আবাসিক চিকিৎসক (RMO), ১ জন অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং ৬ জন ডিপ্লোমা রেজিস্টার্ড নার্স থাকা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্ষেত্রে ৩ জন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, ২ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান, ১ জন এক্স-রে টেকনোলজিস্ট, ১ জন রেডিওলজিস্ট, ১ জন প্যাথলজিস্ট ও ৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকা আবশ্যক।
ভোলার বর্তমান বাস্তব চিত্র:
কাগজে-কলমে জনবল: ভোলার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো লাইসেন্স নেওয়ার সময় ভুয়া সনদে জনবল দেখালেও বাস্তবে তাদের কোনো স্থায়ী জনবল নেই।
ধার করা চিকিৎসক: মোহনা ডায়াগনস্টিক, নিউ লাইফ, আল-আকসা, হাবিব মেডিকেল, ইউনিটি ও ফাতেমা মেমোরিয়াল হাসপাতাল ছাড়া বাকিগুলোর প্রায় কোনোটিতেই স্থায়ী আবাসিক ডাক্তার নেই। জরুরি প্রয়োজনে অন্য স্থান থেকে ডাক্তার ডেকে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আয়া থেকে নার্স: জেলা জুড়ে হাতে গোনা কয়েকজন ডিপ্লোমাধারী নার্স রয়েছেন। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতাহীন আয়াদের নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্টের অভাব: পুরো জেলায় একজনও ডিপ্লোমা অ্যানেস্থেশিয়া ও সনদপ্রাপ্ত সনোলজিস্ট ডাক্তার নেই।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অভিজ্ঞ নার্স না থাকায় ভোলায় ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট এবং ভুল অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে ঘন ঘন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।
ভুল অ্যানেস্থেশিয়ার শিকার: অ্যানেস্থেশিয়ার দক্ষ চিকিৎসক না থাকায় সার্জনদের ভুল প্রসিডিউরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার ফলে অপারেশনের টেবিলেই অনেক রোগীর অকালমৃত্যু ঘটে।
ভুল অপারেশন: দক্ষ সনোলজিস্টের অভাবে প্রায়ই ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট প্রদান করা হয়, যা দেখে ভুল অপারেশনের শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু: প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া কেবল অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে দায়িত্ব পালন করা ভুয়া নার্সদের কারণে প্রসূতি মা ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যুগের পর যুগ চলছে এই অপচিকিৎসায় বাণিজ্য। বিভিন্ন সময় পদ্মা ক্লিনিক, যমুনা ডায়াগনস্টিক, ইবনে সিনা ক্লিনিক, জয়নাল আবেদীন ডায়াগনস্টিক, বন্ধন ক্লিনিক ও আস-সুন্নাহ হাসপাতালসহ অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা বা সিলগালা করা হলেও কয়েকদিন পরই সেগুলো অলৌকিকভাবে আবার চালু হয়ে যায়।
ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এসব অবৈধ ক্লিনিকে ছুটে যান এবং অতিরিক্ত টাকা গুনে প্রতারণার শিকার হন।
এ বিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মু. মনিরুল ইসলাম জানান, জেলার ১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অনেকেরই লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে 'আস-সুন্নাহ হাসপাতাল' ও 'যমুনা ডায়াগনস্টিক' থেকে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের যেকোনো মোবাইল কোর্ট অভিযানে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর