1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
ভোলার গ্যাস দিয়ে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন: তবুও লোডশেডিংয়ে নাকাল ভোলাবাসী - দৈনিক সবুজ নগর
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
নওগাঁর আত্রাইয়ে কালিকাপুর মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র যেন সাইনবোর্ড সর্বস্ব,  ওষুধের তীব্র সংকট সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে খুলনা নগরীর নিরাপত্তা পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন কেএমপি কমিশনার দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা: উপকূলের গভীর নলকূপে ছড়িয়ে পড়ছে নদীর লোনা পানি প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে: রাসিক প্রশাসক শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাসিক প্রশাসকের শুভেচ্ছা ও বাণী প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী আগমন উপলক্ষে চূড়ান্ত সমন্বয় সভা সম্পন্ন শিক্ষার আয়নায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ভবন ও জিপিএ-৫ বাড়ছে, কিন্তু আসল শিক্ষা কোথায়? ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’: কুষ্টিয়ায় লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উদযাপিত না জানিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠাল ঢাকা

ভোলার গ্যাস দিয়ে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন: তবুও লোডশেডিংয়ে নাকাল ভোলাবাসী

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি: প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ দ্বীপজেলা ভোলায় রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস ও বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৪৮৫ মেগাওয়াট, যেখানে স্থানীয় সর্বোচ্চ চাহিদা মাত্র ১২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন ভোলাবাসী। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

ভোলায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান চিত্র

ভোলায় বর্তমানে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে:

  • ভোলা-১ (বোরহানউদ্দিন): বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মালিকানাধীন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার ক্ষমতা ২২৫ মেগাওয়াট।

  • নূসতান পাওয়ার প্ল্যান্ট: বোরহানউদ্দিনে অবস্থিত ২২০ মেগাওয়াটের ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট।

  • রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট: ভোলা শহরের খেয়াঘাট এলাকায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রেন্টাল কেন্দ্র রয়েছে, যা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে বন্ধ। এটি চালু হলে উৎপাদন সক্ষমতা ৪৮৫ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে।

Open photo

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের তথ্যমতে, ভোলায় বর্তমানে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (TCF) গ্যাসের মজুত রয়েছে। ১৯৯৫ সালে আবিষ্কৃত শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র ছাড়াও পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ‘ভোলা নর্থ’ এবং ২০২৩ সালে ‘ইলিশা’ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও চাহিদা কম থাকায় এবং জাতীয় সঞ্চালন লাইন না থাকায় উত্তোলন হচ্ছে মাত্র ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্রাহক সংখ্যা ও লোডশেডিংয়ের চিত্র

ভোলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দুই সংস্থার অধীনে মোট গ্রাহক সংখ্যা ৫ লক্ষাধিক।

  • ওজোপাডিকোর দৈনিক চাহিদা: ২২ থেকে ৩০ মেগাওয়াট

  • পল্লী বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা: ৭০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট

  • বর্তমান লোডশেডিং: ২০% থেকে ৩০%

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান এবং ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও তা জাতীয় গ্রিডে চলে যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই স্থানীয় এলাকায় লোডশেডিং দিচ্ছেন।

Open photo

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা

জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইন না থাকায় ভোলার গ্যাস মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ সেই বিদ্যুৎ স্থানীয়দের না দিয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

  • মোর্শেদ (বরফকল মালিক, ইলিশা): “ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য জেলা চলে, আর আমাদের বরফকলের ব্যবসা লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হওয়ার পথে।”

  • সাকিল (ব্যবসায়ী, লালমোহন): “ব্যবসা পুরোপুরি বিদ্যুৎনির্ভর। যে হারে লোডশেডিং হচ্ছে, ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় নেই।”

  • জেসমিন (বাসিন্দা, ভোলা শহর): “আমাদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে, অথচ আমাদেরই অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।”

সংকটের মূল কারণ ও সমাধান

সচেতন নাগরিকদের মতে, উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেই এই বৈষম্য।

করণীয়: ১. উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে আগে স্থানীয় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদা নিশ্চিত করা। ২. ভোলার বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ কাঠামোর দ্রুত আধুনিকায়ন করা। ৩. জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় সাব-স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট