
সাব্বির আলম বাবু (ভোলা): ভোলা জেলায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইউরিয়া সার সংরক্ষণের বাফার গোডাউন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে চলমান এ নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ১৩ই অক্টোবর দুপুরে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সুষ্ঠুভাবে সার সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণকাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি। এই প্রকল্পের ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশায় মার্ক বিল্ডার্স লিমিটেড নামের বাস্তবায়নাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
প্রকল্প নির্মাণে নিম্নমানের বালু, পাথর, ইট ও পুরোনো রডসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনিয়মের কারণে গোডাউনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা শঙ্কায় পড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী একজোট হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
ভোলা সদর উপজেলার ২নং ইলিশা ইউনিয়ন বিজেপির সদস্যসচিব নোমান হাওলাদার বলেন:
"আমরা চাই, প্রকল্পের নির্ধারিত প্রাক্কলন (এস্টিমেট) ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হোক। কাজে সামান্য কমবেশি হতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই নির্ধারিত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। এই বালু ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কেউ নিজের বাড়ির উঠানও তৈরি করবে না। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা এ ধরনের অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পের কাজ প্রায় এক বছর ধরে চলছে। সরেজমিনে এসে দেখা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুর তুলনায় মাটির পরিমাণই বেশি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্ক বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রকৌশলী দিদারুর রহমান মানিক জানান:
"বালু সরানোর সময় বেকু দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার কারণে কিছু মাটির মিশ্রণ ঘটে গেছে। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে আমার এটি আগেই বন্ধ করা উচিত ছিল। আমি আমার দায় এড়াতে পারি না।"
অন্যদিকে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিসিআইসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান জানান, কাজের গুণগত মান তদারকিতে অনিয়ম ধরা পরায় তিনি সংশ্লিষ্ট লটের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসীও গিয়ে কাজের অনিয়ম দেখতে পান।
এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি মেগা প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে পুনরায় কাজ শুরু করা হোক।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর