
নাজিম হাসান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: সরকারের অত্যন্ত চড়া ভর্তুকিতে সরবরাহ করা সার যাতে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায়, তা শতভাগ নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রসিদ।
তিনি জানান, যেসব জেলার ভৌগোলিক সীমানার সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে এবং সীমান্তের ওপারেও কৃষিকাজ চলে, সেসব অঞ্চলে সরকারি সারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে দেখা যাচ্ছে। তাই দেশীয় সারের চোরাচালান ও পাচার রুখতে বিজিবিকে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি বৃদ্ধির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরমংলা ইকোপার্কে স্থানীয় কৃষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
কৃষিমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, “কোনো অসাধু সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি চক্র যাতে সরকারের দেয়া বিপুল ভর্তুকির সার অপচয় কিংবা সীমান্ত পার করে বিদেশে পাচার করতে না পারে, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসন ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তবর্তী পয়েন্টগুলোতে কড়া চোখ রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের কোনো ধরনের সংকট নেই। প্রতি বছর সারা দেশে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদার বিপরীতে সরকারি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সরকার যেসব সারে সর্বোচ্চ ভর্তুকি প্রদান করে, স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা বেশি থাকায় সেসব নির্দিষ্ট কয়েক জাতের সারের ক্ষেত্রে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।”
সারের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মসৃণ ও সহজলভ্য করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলার সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সারের ডিলার নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আবাদি জমি ও ফসল চাষের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। এ কারণে প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই এই নতুন ডিলারদের মাধ্যমেও স্থানীয়ভাবে সার বিতরণ শুরু হবে। তাদের জন্য নতুন সার বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে আগামী প্রধান রোপণ মৌসুমে কৃষকদের আর সারের কোনো সমস্যা হবে না।”
সরমংলা ইকোপার্কে মতবিনিময়ের পূর্বে মন্ত্রী রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানের খালি জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তিতে বস্তায় আদা চাষ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, জেলা উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BMDA) নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান সহ স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর