মোহাঃ সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা: নাতনিকে নিয়ে শিশু চিকিৎসকের খোঁজে হাসপাতালের একতলা থেকে আরেকতলায় ঘুরছিলেন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব উদ্দিন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ তিনি। মাহতাব উদ্দিন বলেন, “শিশু ডাক্তারকে খুঁজছি, কিন্তু কোথায় পাব বুঝতে পারছি না।”
মাহতাব উদ্দিনের মতো প্রতিদিনই অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের অনুমোদিত ৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন সাতজন।
এ ছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের আটটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন। প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে দুটি এবং সহকারী রেজিস্ট্রারের নয়টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক মাসে সাতজন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। এর বিপরীতে নতুন যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মেডিসিন,শিশু ও সার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।
চর অনুপনগরের বাসিন্দা আজিজুর রহমান তাঁর মা ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজিজুর রহমান বলেন, “এখানে ভর্তি করে লাভ কী, যদি চিকিৎসাই না পাওয়া যায়?”
শুধু চিকিৎসক নয়, সংকট রয়েছে হাসপাতালের অন্যান্য জনবলও। হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য পদে শুন্য রয়েছে আরো প্রায় ৫০টি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন গড়ে দুই হাজার রোগী। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল আমরা এখনো পাইনি। জনবল সংকট আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকজন চিকিৎসক পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়েছেন, বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ জমির মোঃ হাসিবুস সাত্তার বলেন, বর্তমানে সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক যোগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।