
বিশেষ প্রতিনিধি :রাজশাহীর বাঘায় হযরত শাহ আব্দুল হামিদ দানিশমন্দ (রহ.)-এর মাজার ও স্থানীয় কেন্দ্রীয় গোরস্থানে এক রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র মাজারের গ্রিল কেটে এবং গোরস্থানের দানবাক্সের তালা ভেঙে ভেতরের আনুমানিক লাখ টাকার বেশি অর্থ নিয়ে কেটে পড়ে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘা মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং গোরস্থান কমিটির সভাপতি খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম।
কীভাবে ঘটে চুরির ঘটনা?
মাজার কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মাজারের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারের মূল গেট তালাবদ্ধ ছিল। চোরেরা উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর মাজারের ভেতরে থাকা গ্রিল কেটে ও দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা লুটে নেয়। একই রাতে পাশের বাঘা দিঘির পূর্ব পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গোরস্থানের অরক্ষিত দানবাক্সের তালা ভেঙেও টাকা চুরি করা হয়।
চুরি হওয়া টাকার পরিমাণ:
মোতাওয়াল্লী খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, "মাত্র ২২ দিন আগে মাজারসহ ৪টি দানবাক্স খুলে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে, এবার মাজারের দানবাক্স থেকে আনুমানিক ১ লাখ টাকার মতো চুরি হয়েছে।"

অন্যদিকে, গোরস্থান কমিটি জানায়, ১ মাস আগে গণনা করে গোরস্থানের দানবাক্সে ৭ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবারও সমপরিমাণ টাকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যেভাবে ধরা পড়ে:
মাজারের খাদেম সুলতান মাহমুদ জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে তিনি গেটে তালা দিয়ে ঘুমাতে যান। সকাল সাড় ৮টার দিকে দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের নিয়ে মাজারের ভেতর ঢুকতেই দেখা যায় দানবাক্সের তালা ভাঙা এবং মাজারের গ্রিলের একপাশ কাটা।
অভিযোগ উঠেছে, রাতে দিঘির মাছ ও মাজার পাহারায় মোট ৩ জন পাহারাদার থাকলেও চোরেরা নজর এড়িয়ে উত্তর পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ:
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, চুরির ঘটনায় দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও মাজার কমিটির সহ-সভাপতি তকী ফয়সাল তালুকদার জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং থানায় মামলা দায়েরসহ সিসিটিভি ও সার্বিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পবিত্র ও ধর্মীয় স্থানে এমন চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মাজার ও গোরস্থান এলাকায় নাইট পেট্রোল (রাতের টহল) জোরদার করার পাশাপাশি পাহারাদারদের দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর