
বিশেষ প্রতিনিধি | বাঘা (রাজশাহী): রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় মিনারুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুর নীচপলাশী নদীর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মিনারুল ইসলাম স্থানীয় জামাত মণ্ডলের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ‘মণ্ডল বাহিনী’র সদস্যরা পিচবোর্ড নিয়ে নদীপথে যাচ্ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ‘কাঁকন বাহিনী’র সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং পিচবোর্ড ছিনিয়ে নিতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে মণ্ডল বাহিনীও পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে মুহুর্মুহু গোলাগুলি শুরু হয়।
গোলাগুলির এক পর্যায়ে মিনারুল পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় নৌকায় থাকা অন্যরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। ঘটনা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত মিনারুলকে উদ্ধার করে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এলিনা পারভেজ জানান, মিনারুলের পিঠে গভীর গুলির ক্ষত রয়েছে। শরীরের ভেতরে গুলি থাকার আশঙ্কায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এদিকে, চরে আরও একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "সকালে হঠাৎ করেই নদীর ঘাট এলাকায় মুহুর্মুহু গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই।"
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি নদী থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় দেখেন—দুটি পিচবোর্ড থেকে একদল দুর্বৃত্ত অনবরত গুলি ছুড়তে ছুড়তে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, আহত মিনারুল ‘মণ্ডল বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, তিনি সাধারণ জেলে হিসেবে নদীতে মাছ ধরছিলেন এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কাঁকন বাহিনীর ছোড়া গুলিতেই মিনারুল আহত হয়েছেন। মণ্ডল বাহিনীর পিচবোর্ড ছিনতাইকে কেন্দ্র করে এই গোলাগুলি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, বর্ষার পর বন্যা পরবর্তীতে জেগে ওঠা পদ্মার চরের উর্বর কৃষি জমি, খাস জমি এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনের ঘাট দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কুখ্যাত 'কাঁকন বাহিনী'র সঙ্গে স্থানীয় 'মণ্ডল বাহিনী' ও 'মুন্তাজ বাহিনী'র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই বেশ পুরনো। এই বিরোধের জের ধরে ইতিপূর্বেও একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিপূর্বে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী 'অপারেশন ফার্স্ট লাইট'-সহ একাধিক বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করলেও চরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফেরেনি।
আজকের এই ঘটনার পর খানপুর ও নীচপলাশী নদীর ঘাটসহ আশপাশের চরাঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর