স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: এইচএসসি পাশ অথচো বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করতেন এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন) বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, এ ছাড়াও সাইনবোর্ডে আরও লেখা ছিল-তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বেড়িয়ে আসে কথিত ডাক্তারের আসল পরিচয়। তদন্তের পর জানা গেছে তিনি এইচএসসি পাশ। ১১ জানুয়ারি (রবিবার) ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক অভিযানে আটক করা হয় নুরুল ইসলাম কে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডা. মো. রফিকুল হাসান পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন এবং নিয়মিত রোগী দেখতেন বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম রাজশাহীর বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর নিবন্ধন নম্বর A-34797 ব্যবহার করে নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধুমাত্র এইচএসসি পাস। আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের ভেতরে ও চেম্বারের সাইনবোর্ডে তাকে "ডা. মো. রফিকুল হাসান, এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন)” এবং কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, এ ছাড়াও সাইনবোর্ডে আরও লেখা ছিল-তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন।
অভিযানের সময় বাগমারা কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার কাছে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৮(৩) ধারায় অভিযুক্তকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।সেই সাথে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকে জেনে-শুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এদিকে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালকে নিয়ে স্থানীয়দের রয়েছে নানান অভিযোগ।এলাকাবাসী বলেন অতীতেও একাধিক অনিয়মের হয়েছে এই ক্লিনিকে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট, ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা, ভুল চিকিৎসা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চোখে পড়েনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, "রোগীদের সাথে এমন প্রতারণা আইনের চোখে বিরাট অপরাধ।ভুয়া ডাক্তার, অনুমোদনহীন ক্লিনিক জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।” এ অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও এ এস এম সায়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর