
মোঃ কামরুজ্জামান সরকার বাবু, পোরশা (নওগাঁ): নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর সদরের এক অত্যন্ত পরিচিত ও আস্থাভাজন নাম মোঃ মনিরুল ইসলাম মোংলা। একজন সৎ, নিবেদিতপ্রাণ ও মানবিক ব্যবসায়ী হিসেবে পুরো এলাকায় তিনি ‘মোংলা ভাই’ নামেই সমধিক পরিচিত। নিতপুর উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে অবস্থিত তার ঐতিহাসিক ‘জামতলা হোটেল’ কেবল একটি সাধারণ খাবারের দোকান নয়, বরং স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষের প্রধান ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে।
যেভাবে শুরু ‘জামতলা হোটেল’-এর পথচলা
অনুসন্ধানে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে ১৯৮৬ সালে মোংলা ভাইয়ের পিতা প্রথম পোরশা উপজেলায় আসেন। তৎকালীন সময়ে পোরশা থানা সদর এলাকার পরিধি বা জনসমাগম আজকের মতো জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। তিনি নিতপুর সদর ইউনিয়নের প্রধান সড়ক ও উপজেলা গেটের ঠিক সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক দিনগুলোতে দোকানের সামনে তিনি একটি জাম গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। কালের পরিক্রমায় সেই জাম গাছটি বিশাল মহীরুহে রূপ নিয়ে আজও সজীব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মূলত সেই ঐতিহাসিক গাছের নামানুসারেই রেস্তোরাঁটি ‘জামতলা হোটেল’ হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
১৪টি পরিবারের কর্মসংস্থান ও মানবিক উদ্যোগ
পিতার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও ব্যবসাকে মূল সম্বল করে মোংলা ভাই আজ বহু অসহায়, গরিব ও এতিম মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে এই জামতলা হোটেলকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৪টি পরিবারের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। রেস্তোরাঁটিতে কর্মরত প্রতিটি সদস্যকে দৈনিক ৫০০ টাকা করে ন্যায্য মজুরি প্রদান করা হয়। যার ফলে এই ১৪টি পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত সম্মানজনক ও সচ্ছলভাবে তাদের সংসার পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষের রিজিকের সংস্থান করার ক্ষেত্রে মোংলা ভাইয়ের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পোরশার বুকে ‘জামতলা হোটেল’ আজ এক উজ্জ্বল মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর