মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগর ও দক্ষিণ নড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা ও সেবন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর প্রভাবে কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে এবং একাধিক স্থানে কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কেনাবেচা। যেসব এলাকায় মাদকের আড্ডা সক্রিয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলার ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়ন মাদক বিস্তারে শীর্ষে। ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের উত্তর পার্শ্বের মাছের ঘের ও খেজুর বাগান, ইছামতি গুচ্ছ পাড়ার মাছের ঘেরের পাড় ও খাল পাড়, বাশুয়াড়ী উত্তর পাড়া বিল, শুকপাড়ার কানাপুকুরের পাড়, শুভরাড়ার নিকেরিপাড়া, রানাগাতী বালুর মাঠ, সিদ্ধিপাশার নদীর চর, শ্মশানঘাট ও জয়রাবাদ বিলের মাছের ঘেরে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসে। ৬ নং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পোতপাড়া ও পাইকপাড়া ঋষিপল্লী, শ্রীধরপুর বাওড় এলাকা, বর্ণি-হরিশপুর বাজারের পূর্ব পাশে এবং শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মালাধরা বাজারের দক্ষিণের বাগানে রাতে মাদকের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই, মধুরগাতী ও আকবপুর গ্রামে আগের মতোই মাদক চলছে। খড়রিয়া ইউনিয়নে মাদক সরবরাহ হয় চাকই ও মধুরগাতী গ্রামের মাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এছাড়া মির্জাপুর বিলের একাধিক ঘেরের পাড় ও ৯ নং সিংঙ্গাসোলপুর ইউনিয়নের নদীর চরসহ আরও কয়েকটি পয়েন্টে চলছে মাদকের পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচা। সচেতন মহল জানিয়েছেন, টিন-এজাররা এখন মাদকের মোহে আসক্ত। ভৈরব উত্তর অঞ্চলের প্রায় ১২টি পয়েন্টে কিশোরদের দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করানোর কারণে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অচিরেই তারা কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। তাদেরকে এই অভ্যাস থেকে সরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাবে।
এলাকাবাসী জানান, মাদকের ছোবলে ইতিমধ্যে একাধিক সংসার ভাঙার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এলাকার একাধিক ব্যক্তি দ্রুত মাদক বন্ধের জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এখনই মাদকের লাগাম টেনে ধরার উপযুক্ত সময়।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার গোপন আঁতাতেই মাদকের আড্ডা চলছে। এবিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুজ্জামান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আটক করা হচ্ছে, অভয়নগর উপজেলা থেকে মাককে নির্মূল করায় আমাদের কাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কোন ছাড়া দেওয়া হবেনা।#