জাকির হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক, ঢাকা প্রেস ক্লাব:
বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির নজিরবিহীন দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং চরম অপেশাদারিত্বের প্রতিবাদে ‘জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬’ সম্মিলিতভাবে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের সাধারণ খেলোয়াড় ও বিক্ষুব্ধ ক্লাব কর্মকর্তারা।
অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিযোগিতার আয়োজনকে ঘিরে একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ফেডারেশনের একটি চক্র। বার্ষিক ক্যালেন্ডারে প্রতিযোগিতার তারিখ গোপন রেখে শুধুমাত্র বর্তমান অ্যাডহক কমিটির ঘনিষ্ঠ এবং অনুগত জেলাগুলোতে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা সেই জেলাগুলোর খেলোয়াড়দের জন্য গোপনে থাকা-খাওয়া, আবাসন ও যাতায়াতের আর্থিক ব্যবস্থা করা হলেও, যেসকল জেলা বা কোচের সাথে সিন্ডিকেটের সুসম্পর্ক নেই অথবা যারা পূর্বের কমিটির সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এমনকি সংক্ষুব্ধ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে ফেডারেশন সদস্য আরিফ রাব্বানীকে ফোন করলে তিনি অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করে বলেন, "ফেডারেশনের টাকা নেই, আপনারা নিজ খরচে সব বহন করলে আসেন, না হলে আসার দরকার নেই।" একইসাথে, ফেডারেশনের স্বচ্ছতা দাবি করা বেশ কিছু অভিজ্ঞ সংগঠককে 'সাইলেন্ট ব্ল্যাকলিস্টেড' করে রাখা হয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গনে এক ভয়াবহ বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।

এই সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপট মাঠ ছাড়িয়ে এখন প্রশাসনিক দখলের রূপ নিয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে যে, ধানমণ্ডি মহিলা কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করা সিনিয়র মহিলা ব্ল্যাকবেল্ট সদস্যদের ক্ষমতার জোরে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হক এবং সদস্য আরিফ রাব্বানী ও মরিয়ম বেগম ইতি তাদের কমিটির প্রভাব খাটিয়ে ওই সিনিয়র সদস্যদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে আরিফ রাব্বানীর স্ত্রী আসমা আক্তারকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের জন্য কোনো মেডিকেল টিম বা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা হয়নি এবং কোনো টেকনিক্যাল আউটলাইন ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং সম্পন্ন করেছেন। এর আগেও ড্যান প্রোমোশন,বেল্ট গ্রেডিং টেস্ট এবং রেফারি সেমিনারের নামে একইভাবে চিঠিপত্র ছাড়াই গোপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং 'জাতীয় ক্লাব কাপ ২০২৫' এর তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করে খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের হয়রানির চরম সীমায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায়, তায়কোয়ানডোকে এই দখলদার চক্রের হাত থেকে বাঁচাতে খেলোয়াড় সমাজ একাট্টা হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি—ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হক, আরিফ রাব্বানী, মরিয়ম বেগম ইতি, সাব-কমিটির একেএম রফিক এবং আওয়ামী লীগের দোসর ও একাধিক মামলার আসামী কামরুজ্জামান চঞ্চলকে আজীবনের জন্য তায়কোয়ানডো থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
খেলোয়াড়রা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দুর্নীতিবাজ ও স্বজনপ্রীতির হোতারা ফেডারেশন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ তারা এই প্রহসনের জাতীয় প্রতিযোগিতা বর্জন করবেন। ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের হাতে ফেডারেশনের দায়িত্ব অর্পণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংক্ষুব্ধ তায়কোয়ানডো পরিবার।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর