
নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক মাদ্রাসার ১২ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার নিজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি, হামলায় পরিবারের সদস্য আহত হওয়া এবং পুলিশ মামলা না নেওয়ায় ভিকটিমসহ পুরো পরিবার এখন এলাকা ছেড়ে দিশেহারা হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অপহরণ ভিকটিমের পরিবার জানায়, শিশুটির বয়স যখন ৬ বছর, তখন তাকে বাড়ির কাছের একটি নুরানি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। সেই সূত্রে শিবনগর গ্রামের জৈনক আব্দুল হাকিমের ছেলে সালাউদ্দিন হুজুর (৩৫) শিশুটির বাড়িতে গিয়ে নিয়মিত প্রাইভেট পড়াতেন। গত ২ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ৯টার দিকে শিশুটি প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে সালাউদ্দিন হুজুর তাকে কৌশলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। মাদ্রাসা ছুটির পরও মেয়ে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করে পরিবার জানতে পারে, শিক্ষক সালাউদ্দিনই তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে শিক্ষকের বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে পরিবারটিকে গালাগাল ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
উদ্ধার ও সন্ত্রাসী হামলা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেও মেয়েটিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ১৪ জুন শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। ১৫ জুন থানার এএসআই শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সালাউদ্দিনের বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তবে এর পরদিনই ঘটে বিপত্তি। ১৬ জুন সালাউদ্দিন ২০ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র লোক নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে চড়াও হয় এবং শিশুটিকে আবার তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গিয়ে শিশুটির নানি রক্তাক্ত ও আহত হন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে ফের তুলে নেওয়া এবং পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
থানার ভূমিকা ও আদালতে মামলা প্রাণভয়ে রাতের অন্ধকারেই এলাকা ছেড়ে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন তারা। কিন্তু সালাউদ্দিন ও তার লোকজন থানার আশেপাশে এবং তাদের সন্ধানে ঘুরতে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন তারা। পরে ৩০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরামর্শে ভিকটিমের মা শিবগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলা না নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন।
রহস্যজনকভাবে এর দুদিন পর শিবগঞ্জ থানার এএসআই স্বপন কুমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে যান। ভিকটিমের মা কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সালাউদ্দিন হুজুর উল্টো তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন! এ সময় পুলিশ ভিকটিমকে ৩ দিনের মধ্যে হাজির করার আল্টিমেটাম দিয়ে চলে আসে।
অবশেষে কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে থানায় কেন মামলা নেওয়া হয়নি—তা আগামী ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য শিবগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া ঘটনার সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সালাউদ্দিন হুজুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা (SMS) পাঠানো হলেও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর