
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা: খুলনার তেরোখাদা উপজেলার ৫ নম্বর তেরোখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’র প্রধান অহিদুজ্জামান ওরফে ফরিদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগরীর সোনাডাঙ্গা বউবাজার এলাকায় গোপনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে তেরোখাদায় আপন দুই ভাইকে একসঙ্গে হত্যার মামলা, ২০২৪ সালে রাজধানীর শাহবাগ ও খুলনার দিঘলিয়া থানায় পৃথক দুটি নাশকতার মামলা এবং ২০২৬ সালে এক স্কুলশিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা অন্যতম।
নানা অপকর্ম ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অহিদুজ্জামান ওরফে ফরিদ মোল্লার নেতৃত্বাধীন কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’ তেরোখাদা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে চরম ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এ সময় বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অসংখ্য নেতাকর্মী তার রাজনৈতিক মামলা ও হয়রানির শিকার হন।
এছাড়া জমি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ওপর অবৈধ প্রভাব বিস্তার, জোরপূর্বক জমি দখল এবং চাহিদা মতো জমি না দিলে হামলা-মামলা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ভারতীয় একটি কোম্পানির সঙ্গে ভুয়া প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই নেতার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে আইনজীবীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায়ও তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন।
গ্রেপ্তারের খবরে তেরোখাদায় জনমনে স্বস্তি তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেরোখাদার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তেরোখাদা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাগর ইসলাম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “তার বাহিনীর কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় আতঙ্কে ছিলাম। কিছুদিন আগেও এক শিক্ষককে কুপিয়ে জখম করেছিল তার লোকেরা। তাকে গ্রেপ্তারে আমরা এখন নিরাপদ বোধ করছি।”
আরেক ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার আপন ভাইকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করেছে এই বাহিনী। আমরা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৈঠক করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থা আদালতের তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর