
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে এক জাপানি নারীকে হত্যার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেফতারের পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ ও হতাশায় ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জনমনে চলা এই অসন্তোষ দ্বীপটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে এক মার্কিন মেরিন সেনার বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে ওই নারীর মানিব্যাগ চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও অভিযুক্ত সেনা এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
ওকিনাওয়ার ৫৫ বছর বয়সী গৃহিণী তাকাকো কাকাজু এই ঘটনার পর কড়া ভাষায় মার্কিন সেনাদের দ্বীপটি ছেড়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রক্ষা করার কথা বলে, কিন্তু বিনিময়ে আমরা শুধু দুর্ভোগই পাচ্ছি। ওকিনাওয়ার আরও কত নারীকে এভাবে ভুগতে হবে? দয়া করে চলে যান।”
একই সুর শোনা গেছে তরুণী ক্যাফেকর্মী আইরি হিয়ানের গলাতেও। খবরটি শোনার পর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল—‘আবারও সেই একই ঘটনা!’ তার মতে, যদি মার্কিন সামরিক বাহিনী এখানে থাকতে চায়, তবে তাদের কঠোর নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
ওকিনাওয়ার অর্থনীতিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দ্বীপটির বার্ষিক মোট আয়ের প্রায় ৫ শতাংশ আসে এই সামরিক ঘাঁটিসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে, যা স্থানীয় বহু মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। পাশাপাশি, জাপানের শান্তিবাদী সংবিধানের আওতায় সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সরকার মার্কিন শক্তির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই ঘটনায় দুশ্চিন্তায় আছেন। হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন সেনাদের জন্য সাময়িকভাবে মদ্যপান নিষিদ্ধ করায় স্থানীয় বার ও ব্যবসা বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ওকিনাওয়ায় বসবাসকারী শান্তিপ্রিয় মার্কিন নাগরিকরাও এই ঘটনার কারণে স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নাহার এক স্থানীয় বার মালিক স্টিফেন বাটলার জানান, এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি দ্বীপের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এবং বারবার ঘটে চলা এমন অপরাধ রোধে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ওকিনাওয়া দ্বীপের বাসিন্দাদের এই আতঙ্ক ও আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর