এএ আজাদ হান্নান,ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। পরীক্ষা না দিয়েই শিক্ষার্থীদের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ করে দেওয়াসহ প্রশাসনিক নানা স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে সমিতির প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।
এসব অনিয়মের জবাব চাইলে উল্টো অন্য শিক্ষকদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
স্থানীয় সচেতন মহল,ভুক্তভোগী ও নাম প্রকাশ না করার শতে শিক্ষকদের একাংশের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে
এসব জানাগেছে।
সুত্রমতে,ঈশ্বরদীর অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দাশুড়িয়া মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসা। তবে আলোকবর্তিকা ছড়ানোর বদলে প্রতিষ্ঠানটি এখন জড়িয়ে পড়েছে নানা বিতর্কে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধি, অভিভাবক ও (নামপ্রকাশ না করার শর্তে) শিক্ষকের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন।
নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে বার্ষিক, প্রি- টেস্ট কিংবা টেস্ট পরীক্ষা না দিয়েই অযোগ্য শিক্ষার্থীদের দাখিল
পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আলিম পরীক্ষাতেও একই কৌশলে টেস্ট পরীক্ষা ছাড়াই অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ফরম পূরণ করিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে সমিতি থেকে প্রশ্ন কিনে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এছাড়া সময়মতো ক্লাস রুটিন টাঙানো এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস না করিয়ে নিজের খেয়ালখুশিমতো প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার
অভিযোগও রয়েছে। পরীক্ষা না দিয়ে যদি শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়, তবে পড়ার
মানসিকতা থাকে না। বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হয় না। শিক্ষা অফিসের নিয়মও উনি মানছেন না। এতে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জমির উদ্দিন। নিজের অপকর্ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো মাদ্রাসার সহকর্মী শিক্ষকদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের এমন নজিরবিহীন অনিয়মে চরম ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতন মহল। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ফিরিয়ে আনা যায় মাদ্রাসার শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সোলাইমান অিভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ সোয়াইব অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক(অতিরিক্ত দায়িত্ব,অতিরিক্ত সচিব) উবায়দুল হক এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।#
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী সম্পাদক: ইফতেখার আলম সম্পাদক কর্তৃক উত্তর নওদাপাড়া, পো: সপুরা, রাজশাহী-৬২০৩ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১১-২০৮ ১৭২, ০১৮৩৪-৮৬১ ০০৭ ইমেইল: dainiksobujnagar@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সবুজ নগর